একটি শীতের সন্ধ্যা– ফাইজান বিন হক

✍️ Bornomala | 📅 July 11, 2026 | 📁 সাহিত্যাঙ্গন
👁️ 63 বার পড়া হয়েছে
অ্যাড স্পেস (থাম্বনেইলের নিচে)

শীতের সন্ধ্যা। পশ্চিমাকাশে নিস্তেজ সূর্য রক্তিম রূপ ধারণ করে ঝুলন্ত অবস্থায় উঁকি দিচ্ছে। কুয়াশার অস্তিত্বে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। নতুবা সোনালী ধানের শীষে সূর্যের মৃদু আলো চক-চক করছে কীভাবে?

আসরের নামাযের পর হাটতে বের হয়েছিলাম একটু প্রসস্তির খোঁজে। বইয়ের সাথে কতক্ষণই-বা প্রণয়ে লিপ্ত থাকা যায়? ঘন্টার পর ঘন্টা বিভূতিভূষণের সাথে না-হয় হারিয়ে গেলাম অরণ্যে অদ্ভুত লীলায়; কিংবা রবিন ক্রুসোর সমুদ্র ভূমিতে। কিন্তু, কল্পনা পাশাপাশি বাস্তব উপলব্ধির-ও কিছু দাবি রয়েছে..

গ্রামীণ ইটের তৈরি পাকা রাস্তা। রাস্তার পাশে সারি সারি ধানক্ষেত। কুয়াশার প্রভাবে বিন্দু-বিন্দু শিশির জমে আছে ধানের পাতার গায়ে। ডুবন্ত সূর্যের আলো জমে থাকা সেই শিশির কণাগুলোকে পরিণত করেছে চকচকে স্বর্ণ বিন্দুতে। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসের কম্পনে আলতো করে ঝরে পড়ছে সেই কুয়াশার স্বর্ণ বিন্দু। সেভেন্টি-ডি ক্যামেরাটা থাকলে মাইক্রো-লেন্স দিয়ে খুব চমৎকারভাবে ফ্রেমবন্দি করা যেত। ক্যামেরা সঙ্গে নেই।

শীতকালে বিকেল থেকে সূর্য-ডোবা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টা কেমন যেন আশ্চর্য নিস্তব্ধতার মধ্যে অবস্থান করে। হয়তো এই বিষণ্নতা শুধু মনের নয়, শরীরেরও। মেডিক্যাল সায়েন্স বলে, শীতের সময়ে সূর্যালোকের অভাবে আমাদের শরীরে ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের পরিমাণ কমে যায়, যা মানুষকে এক ধরণের অকারন হতাশায় ডুবিয়ে দেয়। তাই, হয়তো এই গুমোট বিকেলে বুকের ভেতর অন্যরকম এক হাহাকার জন্ম নেয়।

চারিদিকে ঠান্ডা হাওয়া। নিশ্চুপ প্রকৃতি। গুমোট পরিবেশ– সব মিলিয়ে অন্যরকম হাহাকার। সেই হাহাকারের মধ্যে আমি এগিয়ে যাচ্ছে। একা হাটতে তৃপ্তি লাগছে না। ইচ্ছে করছে এই গুমোট শীতের গোধূলিতে একজন প্রিয়তমা, প্রেয়সীর সঙ্গে নগ্ন পায়ে ধানক্ষেতের আইল মাড়িয়ে ছুটে যাই অনন্তকাল।

হাটতে হাটতে বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। এই শীত একদিন থাকবে না। ধানক্ষেতের থাকবে না একদিন। আমার অস্তিত্ব থাকবে না, থাকবে না আমার কাল্পনিক প্রেয়সীর কল্পনা। প্রকৃতির এই নিয়ম– সবকিছু কখনও পূর্ণতা পায় না।

চার | নয় | বাইশ
– ফাইজান বিন হক

অ্যাড স্পেস (পোস্টের নিচে)

মতামত ও আলোচনা

মন্তব্য করতে হলে আপনাকে লগইন করতে হবে।