ফুলের মতো সুন্দর এই শহরের মানুষগুলো হতো, যদি ফুলের মতোই আমাদের বিপ্লব সুশোভিত হতো। যদি ফুলের মতো শিশুরা বিকশিত হতো, নরপশুদের হাতে তাদের শেষ না হতে হতো!
অনেক কিছুই হতে পারত, তবে হয়নি। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের স্বার্থের কাছে হেরে গেছে আমাদের বিপ্লব।
আমরা একটা নয়া সভ্যতার গল্প লিখতে ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থ হয়েছি বিপ্লবে জীবন দেওয়া শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ দিতে। ব্যর্থ হয়েছি হাজার হাজার ভাই-বোন যারা বিপ্লবের জন্য নিজেদের হাত, পা, চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছেন সারাজীবনের জন্য, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে।
আজ ফুলের কাছে গেলে আর ঘ্রাণ পাই না। ভেসে আসে রক্তের উটকো গন্ধ। আর চিৎকার করে বলে, আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
আজকাল পাখির ডাকে হাহাকারের সুর। পাখির গানের সুর বদলেছে। পাখিরা উপহাস করে আমাদের ব্যর্থতার জন্য।
আজ আমি কোনো মায়ের চোখে চোখ রেখে তাকাতে পারি না। কিভাবে তাকাব বলুন, আমরা তো আমাদের মায়েদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি।
লজ্জায়, অপমানে, রক্তের ঘ্রাণে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে চারিপাশ। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কিভাবে কথা বলব বলুন। আজ আমার যে বোনটা ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও আমি ভাই হয়ে চুপ, সেই ভাই কিভাবে কথা বলবে বলুন।
কুকুরগুলো বড্ড ঘেউ ঘেউ করে আজকাল, খুবলে খুবলে খেয়েছে তারা আমার ছোট্ট বোনটিকে। তারপরও ঘেউ ঘেউ করে বলে, আমার ক্ষুধা মেটেনি।
আজকাল বাবারা বাজারে যেতে ভয় পায়। দ্রব্যমূল্যের দিকে তাকালে তারা শিউরে ওঠে। সন্তানদের পেটে অন্ন কীভাবে যোগাবে?
অসুস্থ মানুষগুলো প্রচণ্ড গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ যেন আজকাল সোনার হরিণ। হারিকেন জ্বালিয়েও তার দেখা মেলা ভার।
একজন স্টুডেন্ট যে পরিবার থেকে দূরে এসে পড়াশোনা করছে আকাশজোড়া স্বপ্ন নিয়ে, সে ভালো খেতে পায় না। চড়তে পারে না ভালো গাড়িতে। বড্ড ভয়—এত ভাড়া দিয়ে গাড়িতে কিভাবে চড়বে? ছুটিতে বাসায় গিয়ে মায়ের হাতের স্নেহমাখা খাবার তার ভাগ্যে জোটে না। কিভাবে জুটবে, এত বেশি ভাড়া দিয়ে কি ঘরে ফেরা যায়?
আমরা আমাদের বিপ্লব রক্ষা করতে পারিনি। নতুন যে ফুল ফুটেছিল বাগানে, তার ঘ্রাণ ছড়ানোর আগেই ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে কিছু স্বার্থপর হায়েনা। ক্ষমতার লোভে উন্মত্ত পাগল আজ খুবলে খুবলে খাচ্ছে আমাদের স্বপ্নকে।
বাগানের ফুলেরা আজ শাহাদাতের পেয়ালা পান করছে। কিন্তু তাঁদের শাহাদাতের মূল্য বুঝে নিতে আমরা ব্যর্থ। বিচারহীনতার এক মহা উৎসব চলছে। নয়া জালেম পুরানো জালেমের সাথে গভীর প্রেমে মত্ত। বাগানের ফুলেদের ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য আজ গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
বিপ্লবীরা, আপনারা কি ঘুমিয়ে থাকবেন? জাগবেন না? বাগানের ফুলগুলোকে রক্ষা করতে? আপনারা কি লিখতে চান না নয়া আজাদীর গান? এভাবে আর কত জুলুম সইবেন? কত ফুল হারাবে তার প্রাণ…..?

মতামত ও আলোচনা